ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে মেটার সার্ভারে বিপর্যয়, ফেসবুক-মেসেঞ্জার ব্যবহারে বিভ্রাট সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ঢাকার বাতাস আজ কতটা দূষিত? বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় কোনটি? মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় যারা আতিফ আসলামের কনসার্টের টিকিট নিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন গ্রেফতার ৪৫ বছর আত্মগোপনের পর গ্রেপ্তার জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর, যেভাবে শনাক্ত করল ডিবি ৩৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার ২৫৫ সফল পাস, ইংল্যান্ডের মাত্র ২০ পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের খালে গোসলে নেমে এক গ্রামের চার শিশুর মৃত্যু এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়? গাজর কি সত্যিই দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়? নিয়মিত রাতের খাবার না খেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী ওটিটিতে শাকিব খানের ঈদের সিনেমা শাহরুখের ‘মান্নাত’ সম্প্রসারণে আর আইনি বাধা নেই ফিফা মাতানো সঞ্জয় আসছেন ঢাকায় খলচরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছার কথা জানালেন পূর্ণিমা রাজধানীর যেসব স্থানে বড় পর্দায় দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল

শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ১২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ১২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন
শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেফতার হওয়া মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বর্তমানে মোজাফফর হোসেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাকে একটি বিশেষ ইউনিটে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোজাফফরকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতার দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী থেকে আগেই মোজাফফরকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার ভূমিকা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মোজাফফর পলাতক ছিলেন। তৎকালীন মেজর মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সেনা আইনে তার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য পলাতক থাকলে তাকে ‘অ্যাবসকন্ড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। কোর্ট মার্শাল পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের উপস্থিতি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতদিন তার বিচার সম্পন্ন হয়নি।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, মোজাফফরের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তৎকালীন সময়ে মোজাফফরকে ধরিয়ে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর প্রথমে আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে অবস্থান করেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে তিনি পরিচয় গোপন রেখে নীরবে বসবাস করছিলেন বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মোজাফফরের বিচার সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

অন্যদিকে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, শুধু অভিযুক্তের বিচার নয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং কারা তাকে দেশত্যাগ ও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে সহায়তা করেছিলেন, তাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার মতে, শুধু একজন অভিযুক্তের বিচার নয়, পুরো ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানের সময় নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্পাদকীয় নোট: মূল প্রতিবেদনে "চাঞ্চল্যকর তথ্য", "ইতিহাসের খলনায়ক", "সবকিছু হুবহু বর্ণনা করেছেন"—এ ধরনের যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তাই জাতীয় দৈনিকের সম্পাদনা নীতির আলোকে সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নিশ্চিত তথ্য ও দাবির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : M Mehedi Hasan Arif

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বজুড়ে মেটার সার্ভারে বিপর্যয়, ফেসবুক-মেসেঞ্জার ব্যবহারে বিভ্রাট

বিশ্বজুড়ে মেটার সার্ভারে বিপর্যয়, ফেসবুক-মেসেঞ্জার ব্যবহারে বিভ্রাট